দিরাইয়ে অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দিশেহারা ১৩ পরিবার
- আপলোড সময় : ০৪-১১-২০২৬ ১০:১২:৩৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৪-১১-২০২৬ ১০:১২:৩৯ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
এক রাতের আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে বসতঘর, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও ধান। মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দিরাই উপজেলার জারলিয়া গ্রামের ১৩টি পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের কেউ জেলে, কেউ কৃষক। হাওরে মাছ ধরে ও কৃষিকাজ করে যাঁদের কোনোরকমে সংসার চলে, তাঁদের পক্ষে নতুন করে ঘর তৈরি করা প্রায় অসম্ভব। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে এখন সরকারি সহায়তার আশায় দিন গুনছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
গত সোমবার রাতে উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের জারলিয়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৩টি পরিবারের বসতঘর পুড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত আটটার দিকে গ্রামের একটি ঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘরগুলো পাশাপাশি লাগানো থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে অন্য ঘরগুলোতে। আগুন দেখে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তা নেভানোর চেষ্টা করেন। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায় ঘরগুলো। আগুনের তীব্রতায় ঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি অনেকেই।
গ্রামের বাসিন্দা রমা কান্ত দাস বলেন, তাঁদের গ্রামের ঘরগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি লাগানো। রাত আটটার দিকে একটি ঘরে আগুন লাগার পর দ্রুত তা অন্য ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন চেষ্টা করেও ঘরগুলো রক্ষা করতে পারেননি। বসতঘরের সঙ্গে আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও অনেকের ধানও পুড়ে গেছে। ঘরগুলোর ওপর দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের লাইন গেছে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে ধীরেন্দ্র দাসের জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা এই মানুষটির কাছে বসতঘরই ছিল পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়। সেই ঘরটুকু পুড়ে যাওয়ায় এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবেন, কীভাবে আবার ঘর তৈরি করবেন, তা ভেবে দিশেহারা তিনি।
ধীরেন্দ্র দাস বলেন, আমরা দরিদ্র মানুষ। হাওরে মাছ ধরি। কোনোরকমে খাইয়া-না খাইয়া দিন যায়। এখন ঘরদুয়ার সব পুড়ি গেছে। সাহায্য না পাইলে ঘর বানাইতাম পারতাম না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অধিকাংশই দরিদ্র। কেউ মাছ ধরে, কেউ কৃষিকাজ করে সংসার চালান। তাঁদের অনেকেরই সঞ্চয় বলতে তেমন কিছু নেই। আগুনে বসতঘরের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও খাদ্যশস্য পুড়ে যাওয়ায় তাঁদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। নিজেদের সামর্থ্যে নতুন করে ঘর নির্মাণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, খবর পেয়ে ওই রাতেই ঘটনাস্থলে যান দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার। তিনি বলেন, আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ